গরমের ছুটি হয়, নেই সেই শৈশব
শুভাশিস দাশ
গ্রীষ্ম আজও আসে ! আসে বৈশাখী ঝড় ,গরমের বন্ধও হয় স্কুলে । মামা আছে মাসি আছে দিদা দাদু ঠাম্মা সবাই আছে শুধু নেই উন্মুক্ত শৈশব আর আমাদের সেই ছেলেবেলার সম্পর্কের মধুর বন্ধন !
আমাদের সময় গরমের ছুটি হলেই হয় মামা বাড়ি নয় কেউ মাসির বাড়ি অথবা পিসির বাড়ি ।
আমার মামা মাসিরা অবশ্য অনেক দূরে থাকতো তাই কাছে পিঠে পিসিমা র বাড়ি যেতাম এই আম কাঁঠালের দিনে ।
সে এক অন্যরকম অনুভূতি !
আর অপেক্ষা করে থাকতাম কখন ঝড় উঠবে !পিসিমার বাড়িতে বেশ কটি ভালো জাতের আম গাছ ছিল । একটা তো দুধে খাওয়া আম ছিল । আর কাঁচামিঠে আম !কোন কথা হবে না এখনও মনে হলে জিভে জল এসে যায় !
আমরা সব তুতো ভাইরা গিয়ে অনেক মজা করতাম গরমের ছুটি হলে । আর পিসিমার আদর !কেননা কাছে হলেও বছরে দুবারের বেশি যাওয়াই হতো না !
আমার বন্ধু ভরত যেতো ওর মামা বাড়ি ঘুরতে !সেই একই মজা সবার ।
স্কুল খোলার প্রথম দিন ও রকমই ক্লাশ হতো । সবাই টিফিনের সময় সেই সব গল্প নিয়ে কাটিয়ে দিতাম সেদিন !
আমরা সব তুতো ভাইরা গিয়ে অনেক মজা করতাম গরমের ছুটি হলে । আর পিসিমার আদর !কেননা কাছে হলেও বছরে দুবারের বেশি যাওয়াই হতো না !
আমার বন্ধু ভরত যেতো ওর মামা বাড়ি ঘুরতে !সেই একই মজা সবার ।
স্কুল খোলার প্রথম দিন ও রকমই ক্লাশ হতো । সবাই টিফিনের সময় সেই সব গল্প নিয়ে কাটিয়ে দিতাম সেদিন !
কালের বিবর্তনের সাথে সাথে সময় পাল্টে যাচ্ছে আর সেই সাথে তাল দিয়ে পাল্টাচ্ছে আমার যাপন চিত্র !
আমাদের সময়ের একান্নবর্তী পরিবারের যে একতা দেখেছি তা আজ খুঁজে পাইনা। পরিবার ছোট হতে হতে নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়ে গেছে ফলে সেই সব পরিবারের ছেলে মেয়েরা কেবলই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে ফলে সমাজ এক ভয়ংকর পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছে ।
সেদিন সুপর্ণ বলছিল ওর ছেলেটি হঠাৎবায়না ধরেছিল মামা বাড়ি যাবে ! সুপর্ণ ছেলেকে অন্য কিছু বুঝিয়ে সেই বায়না ধরা থেকে বিরত করেছিল কারণ আদতে সুপর্ণ র সাথে ওর গিন্নির বাপের বাড়ির সম্পর্ক একদম ভালো ছিল না !
আজকাল সত্যিই সম্পর্ক গুলো কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে । মা বাবা আর তাদের সন্তান নিয়ে চলছে আমাদের আজকের সমাজ সেখানে নেই কোন মামা মাসি পিসিদের ভূমিকা !আর যে দু চারজন দাদু দিদা নিয়ে থাকেন তারা সেখানে কাজের মানুষের মতোই থাকেন !
স্কুল গরমের ছুটি হয় কিন্তু আজকের শৈশব সেই ছুটিতে আম কুড়োতে যায় না কোন মামা বাড়ি বা মাসির বাড়ি !
স্কুল ছুটির দিনগুলোতে মা বাবার এনজয় এর জন্য বেছে নেন পুরীর সমুদ্র কিংবা দীঘার সৈকত !
আসলে এখনকার শৈশব জানেই না মামা বাড়ি মাসি বাড়ির কী আদর !তাদের জানতে দেয়া হয়না । স্কলার তৈরির ইঁদুর দৌড়ে তাদের সব সময় ব্যস্ত রাখা হয় !
যাও বা দু একজনের মাসি মামার সান্নিধ্য পায় তারা ওই সেল ফোনে ভিডিও কলিং এ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে মাত্র !
এই চিত্রটি কিন্তু একশ ভাগ শহরের কিন্তু গাঁ গেরামে আজও কিছুটা আমাদের সময়কার সেই শৈশব দৃশ্য দেখা যায় বিশেষ করে আমাদের এই উত্তর বঙ্গের গ্রামাঞ্চলে ।


No comments:
Post a Comment