সত্যান্বেষী,পাঁজর আর সে
শমীক দত্ত
সত্য,তোর মনে আছে,
বুকের বাঁ দিকে ব্যথার কথা বলেছিলাম?
আজ পাঁজর ভেঙে সারা বুকে ছড়িয়েছে।
জানিস,
কাল রাত থেকেই তোকে ভীষণ মনে পড়ছে,
পারদ চড়তে চড়তে যখন শিখরে পৌঁছলো
কাঁচে তখন পাঠ একশো দুই।
আর তোর সাথে চাঁদের আলোয়-
ওহ!চাঁদ বলতেই মনে পড়লো,
ড্রয়িং রুমের মজলিস টাও ছেড়েছি এক সপ্তাহ হলো
চাঁদের হাটের বেচাকেনাও বন্ধ হয়েগেছে,
চড়া সুদ চড়েছে ধারদেনার কাঁধে।
সত্য,তোর মনে আছে,
ভালোবেসে দুটো মাছ উপহার দিয়েছিলি?
একটা মারা গেছে,
অন্যটা আনমনে জল কেঁটে ঘুরে বেড়ায়।
প্রলাপ
আলো
সমাজের বিরোধী
মধ্যরাতের সংলাপ
ফিরোজ হক্
মধ্যরাতে নিদ্রাহীন চোখেও
সংলাপগুলি প্রিয় হয়ে ওঠে।
প্রিয় হয়ে ওঠে বর্ণ থেকে শব্দ
শব্দ থেকে বাক্য।
আবেগমিশ্রিত কন্ঠটি
অবাক করে তোলে।
যে স্মৃতিগুলো নিয়ে ভাবা হয়নি কখনও
সেই স্মৃতিগুলিও ভাবতে শেখায়,
মধ্যরাতের গগনে
সাতটি রং দেখা দেয়।
বক্তা হিসাবে একটি মন বিড়বিড় করলেও
একটি মন কেবলই শ্রোতা
এভাবেই মধ্যরাতের সংলাপে
ঊষার আগমন ঘটে।
পর্ণমোচী গাছ, পুরোনো এক নদী ও আমি
রতন দাস
আরও কত বদলাবে রোজ ?
আরও কত পাল্টাবে প্রেমিক-পোশাক ?
আরও কত পোশাক পাল্টালে
তোমাকে পর্ণমোচী আখ্যা দেওয়া যায় ?
আমি ভালবাসায় ন্যুব্জ হতে হতে দেখে নিই
তুমি আর আমার ভেতরের তুমির মধ্যে বিস্তর ফারাক।
তুমি তখন নতুন পুরুষের চোখে রাখ মায়ামাখা চোখ।
আমি প্রতিদিন নিঃস্ব হতে হতে
ফিরে যাই পুরোনো এক নদীর কাছে,
নদীর কাছে উজাড় করে দিই সমস্ত মেঘ,
নদীর জলে সব কান্না ধুয়ে ফেলি।
নদীর ধার ঘেঁষে দেখি
একটা পথ অনন্তে মিশে গেছে,
দূরদূরান্ত পর্যন্ত সে পথে
কোন পর্ণমোচী গাছ চোখে পড়ে না।
অনন্যা দাশগুপ্ত
পরিত্যক্ত বাসার মধ্যে শুয়ে আছি মোটামুটি মাথা গুঁজে...
কয়েকটা মৃত মানুষ গন্ধ শুঁকছে বাসার পাশে এসে।
অপেক্ষা করছে,উঁকি দিচ্ছে
কিন্তু,কেউ বাসার ভেতর আসছে না।
আকাশে মেঘ কেটে গেছে
পর্দা উঠে গেছে সম্ভ্রমের
সীমায়িত শূণ্যতা পাশে বসে বকছে অনন্ত প্রলাপ।
মায়ের কথা মনে পড়ছে...
জ্বর এলে যেমন মা পাশে বসে থাকতো,
তেমন করে ওরা কেউ পাশে থাকছে না।
ঋভুব্রত পাল
ধরা দিও না, মনের পাড়ে
দিনশেষে দেখি ছাইমেখে শিব-রঙা দুপূর...
কষ্ট করে ভাবনাদের সঙ্গম।
কেন বসে থাকো, বালির ঘরে??
দেশের রক্ত তোমার বুকে
একফোঁটা
একফোঁটা
ঝরছে।
পথের কে ডাক দেয়
টিক
টিক....
সময় ...
প্রেম হলোনা আমার...
বালিতে রক্ত...
আমার অন্ধকারে 'আলো' হয়ে আসবে??
একটিবার....
আম উদ্যান
অনিমেষ সরকার
আমার বাগানের ঠিক পেছনে
শ্মশানবন্ধুরা ফিরে আসে
প্রতি রাতে।
কুঁড়িয়ে নেওয়া থেকে যতটুকু গোছানো
ডায়নিং রুমে বসে পড়ে।
টিকালো নাক হালকা বাদামী রাগের মেয়েটা
মেলার মাঠ দিয়ে চলে যায়
সকালের কার্ণিশে রোদধুলো একসঙ্গে মাঝামাঝি খবর তৈরী করে
এই দুপুরে অনেকেই ঘুমিয়ে যায়
জন্ম থেকে ইচ্ছেগাঁওয়ের পরিধি ভাবতে বসে
কতদিন আমার জ্বর হলে
তিস্তার বুকে মেয়েটি স্নান করতে আসে
এসবের হিসেব মেলেনা
নক্ষত্র
অভ্রনিলয় বসু
লুকিয়ে রেখেছিলাম নিজেকে
দিনের আলোয়-
তোমাকে দেখতে বড় সাধ হচ্ছিল
কথা বলতেও,
তুমি বলেছিলে কথা হবে না...।
তোমার ইচ্ছেতে
নিজেই অন্ধকার হয়ে গেলাম,
দেখছি এখন নক্ষত্রদের সাক্ষী করে
এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
রাজ অধিকারী
সাঁতার সারাদিন
মাত্র কয়েক ঝড় হলো তুমি এসেছো,
আর তাতেই হবে সেই বৃষ্টিলেখা?
আর আমি হয়ে যাবো যেরকম চাও।
হবো?
হয়ে যাবো দু'দিন, যেরকম
তুমি চাও, চওড়া ছাতি পুরুষ
যে সূর্য দেখে আইন হয়ে।
দিয়ে দেব নাহয় আমার খাঁচা
বিসর্জন। ওড়াবো জোরে হাঁটার মুদ্রাদোষ
হাওয়ায়।
কিন্তু সেই আমি তো অনেকদিনের।
রাস্তায় জীব ছুঁলে তৈরি হওয়া।
পান্তা থেকে খিদে নিয়ে খায় রাতে।
চাইলে তোমার ঘাড়ে পেতে দেব
পোকার কামড়। বাড়িতে।
বেশ, ছেড়ে দেব নাহয় কবিতা লেখা;
বুঝে যাবে তো কেন তোমাকে বেছে নেওয়া?
ফাঁস
শান্তা ভৌমিক
কালচে চাঁদ আর সময় ত্রিভুজ !
অপেক্ষার চূঁড়াতে জনগণ ;
রক্তচোষারা হানা দেয় শহরে ,
বাতি নিয়ম করে জ্বলে ।
রক্তাল্পতা তখন কাগজপত্রে ঘোরা ফেরা করে ...
কৃত্তিম ভিড় বেড়ে যায় ,
খাঁচায় ঝাপটা দেয় পাখি !
বর্তমানকে কাকের থেকে বেশি কর্কশ লাগে।
জানো,বাবা, তোমার মেয়ে না ভালো আছে
শিবব্রত গুহ
জানো বাবা, তোমার
মেয়ে না ভালো আছে,
খুব সুখে আছি আমি।
ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ছিলাম আমি ভালো,
কলেজে পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা ভালো সম্বন্ধ পেলে তুমি।
পাত্র সরকারী চাকুরী করে, ভালো মাইনে,
গাড়ী, বাড়ী, ফ্ল্যাট আছে সবকিছু।
এইরকম সৎ-চরিত্র, ভালো পাত্র কি আর সহজে মেলে?
তাই তোমার আর মায়ের চাপে ঘটল আমার পড়াশুনায় ইতি।
এটা কেন করলে বাবা?
আমি মেয়ে বলে?
যদি আমি ছেলে হতাম তাহলেও কি তুমি এরকম করতে?
ছোটবেলা থেকেই ভাবতাম ভবিষ্যতে হবো বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা,
তোমাদের চাপে তা আর হওয়া হল না।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও, আমাকে বিয়েটা করতে হল শুধু তোমাদের মুখ চেয়ে।
তোমার জামাই খুব ভাল,
রোজ রাতে বাড়ী ফেরে মাতাল হয়ে,
জানো বাবা, আমাকে না খুব মারে!
সারা গায়ে আমার কালশীটে দাগ,
ছোটবেলা থেকে আমাকে তোমরা বড় করে তুলেছো কত আদরে, আর আজ?
তোমাদের গুণধর জামাইয়ের গুণের নেই শেষ,
অফিসের এক বিধবা যুবতী মেয়ের সাথে বিয়ের অনেকদিন আগে থেকেই চলছে প্রেম ভালোবাসা!
মাঝে মাঝে রাতে আসে না বাড়ীতে তোমার জামাই,
বিধবা মেয়েটার সঙ্গে কাটায় রাত।
জানো বাবা, এখানে আমাকে ভালো করে খেতে দেয়না,
সারা দিন-রাত শুধু খাটায়।
তোমার মেয়েকে এখন দেখলে চিনতেই পারবে না তুমি!
তোমাদের অনেকদিন দেখি না।
খুব দেখতে ইচ্ছা করে তোমাদের জানো বাবা, খুব!
তোমার সুগার কমেছে তো?
আর মায়ের প্রেসার?
তোমরা ঠিকমতো ওষুধ খেয়ো।
আর আমার জন্য চিন্তা কোরো না,
আমি ভালো আছি।
জানি না, আর কখনো তোমাদের দেখতে পাবো কিনা?
তোমরা ভালো থেকো,
ভালো থেকো,
ভালো থেকো!
ইতি
তোমাদের
আদরের
মণিদীপা
ইচ্ছে হত একসময়
অঙ্কিত দে
ইচ্ছে হয় , আঘাত ভুলে অনেক আদর করি তোমায়,
ইচ্ছে হয় , তোমার সাথে দস্যিপনা করার,
ইচ্ছে হয় , তোমার ঠোঁটে ঠোঁট রেখে নরম গল্পের রূপকথা বোনার
ইচ্ছে হয় , তোমার কোলে মুখ গুঁজে অনেক্ষন কাঁদার,
ইচ্ছে হয় , তোমায় নিয়ে একটা বৃষ্টি-বিকেলের কবিতা লেখার।
ইচ্ছে হয় , আরো অনেক ইচ্ছে প্রকাশ করার,
আমি থেমে পড়ি ।
(দরজায় বৈশাখ এসে সম্মোহনের সুরে
জানিয়ে গেলো " বর্তমানকালে আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে")
আদিত্য
বিরক্তি লাগে এখন কল্পনা করতে ,
ছেড়ে দিলাম সেই imagination ,
এবার বাস্তবিকতায় ফিরে আসব ।
হ্যাঁ ,এবার চুপ করে আমার কথা শোনো ,
সেই দিনের সেই অর্ধচন্দ্রের রাতের কথা মনে আছে ?
যেদিন আমার দেয়া সেই সাদা ফুলের গোছাটা অনিষ্ঠের আগুনে ফেলে দিয়েছিলে ।
খারাপ লেগেছিল খুব কিন্তু তাও মেনে নিয়েছিলাম,
কেনই বা সাজতে গিয়েছিলে ভালমানুষের রং এ ।
রঙ যদি খুলেও বা যেত কি বা হতো ,
নাকি আসল চেহারা দেখানোর ভয় এ আঠা দিয়ে আটকে রেখেছিলে ?
তুমি যা চেয়েছিলে তাই হয়ে গেছি ,
তোমার অনুগত এক চরমপন্থী সমর্থক ।।
সেদিন যখন তুমি আমাকে এক সমুদ্রের তীরে নিয়ে গিয়েছিলে ,
ভুলতে পারবো না সেই নিষ্ঠুর দৃশ্য ।
যেখানে সমুদ্র নিজের একাধিপত্ব এর লড়াই এ বাকিদের কিস্তিমাত করতে ব্যস্ত ,
কোন দুঃখ , কোন খুশী কিংবা কোন ছলচাতুরি কেউ ই জিততে পারে না তার কাছে ।
সমুদ্রের কঠিন বাস্তবের কাছে মাথানত করতে হয় ,
তুমিই প্রথম যে কিনা আমাকে কঠোর মনস্কতা দিয়ে
সমুদ্র জয় করার কথা বললে ।
আঙ্গুল কেটে রক্তের দাগ দিয়ে সেই চুক্তি পত্রে সই করলাম ।
পারিপার্শ্বিক প্ররোচনার সেই প্রোপাগান্ডা আমাকে কোনোদিন দমিয়ে দেয় নি ,
সবাই মৃত্যভয় এর হুমকি দিয়ে সমস্ত কিছু কেড়ে নিয়েছিল দমানোর জন্য ,
কিন্তু আমি হারাতে রাজি হয়েছিলাম হারতে নয় ।
শুধুই অনুসরণ করেছিলাম তোমার পথ ,
সমুদ্র জয় এর অদম্য বিশ্বাস ।
সেদিন থেকেই নীল কালির কলম ছেড়ে ,
লাল কালির যন্ত্রে মনঃসংযোগ করেছিলাম ।
প্রেমিকার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেও ,
চলতে হবে আমাকে সেই পথে,
মূল্যের খেলা যেখানে সর্বনাশা।
সামনে আসমুদ্র হিমাচল সাম্রাজ্যের জন্য ,
অনেক কিছুই জলাঞ্জলি দিলাম ,
নিজের রক্তের থেকে শুরু করে প্রিয়জনদের ।
ভাসিয়ে দিলাম লোহিতের নদী ,
শুধুই সাম্রাজ্যের লোভ ।
আজ সমুদ্রের থেকে বড় আমি ,
ইতিহাসে এখনো পরিচিত আমি হয়তো নাম ভিটো বলে ,
কিংবা পাবলো এসকোবার ।।


No comments:
Post a Comment