রাতের দার্জিলিং এ একদিন……
হোমাগ্নি ঘোষ
I swear I couldn’t love you more than I do right now , and yet I know I will tomorrow.
রাস্তার বাঁকটা নিতেই দেখলাম গোধূলির শেষ আলোয় বিষণ্ণ দুটো কাঠের বেঞ্চ। সেই বিকেলের স্থিমিত আলোয় কুয়াশা মেঘ মিশে কেমন যেন মনখারাপের ছেলেবেলা তৈরি করেছে। দুরের পাহাড় মেঘ কুয়াশা বৃষ্টি সব কেমন যেন নীল হয়ে গেছে আমার প্রেমের আবেশে। বেঞ্চের মধ্যে এক ঝাঁক নেপালি মুখ তাদের লাল লাল গাল, তাদের চোখের উজ্জ্বল দৃষ্টি, তাদের চ্যাপ্টা ঠোটের মিষ্টি হাসি। সামনের রেলিং এর গায়ে মত্ত দুজন প্রেমিক প্রেমিকা, সারা পৃথিবীর এই ব্যাস্ততার মাঝে তারা যেন হারিয়ে গেছে নিজেদের প্রেমের তীব্র গভীরতায়। খাদের ধারের রেলিং এর গা ঘেঁসে বসলাম সেই কাঠের বেঞ্চিতে সাথে গরমএক কাপ চা । আস্তে আস্তে সন্ধ্যা নামছে পাহাড়ের বুকে, দুরের কাঠের বাড়িগুলোতে আলো জ্বলা শুরু হয়েছে, আমার চোখের সামনে শুধুই নীল মেঘের দল তাতে ডুব দিয়েছে কিছু সুন্দরী পাহাড়ি কন্যা ,মেঘের সাথে ভেসে আসছে তাদের ঝর্ণার জলের মত হাসির উচ্ছাস। আমি বসে আছি আমার ভালোবাসার দার্জিলিং এ সেই স্মৃতি বিজরিত কাঠের বেঞ্চিতে।
চলুন আজ আমরা রাতের দার্জিলিং কে আবিস্কার করি। ম্যালের সমস্ত আলো জ্বলে উঠেছে, সেই হলুদ সোডিয়ামের আলোর তলায় সাদা কুয়াশার কনা ভেসে বেড়াচ্ছে। ঘোড়া ওলারা তাদের খুচরো পয়সার থলি নিয়ে ঘরে ফিরছে। ম্যালের পাশের মহাকাল মার্কেট আর ম্যাল লোকাল মার্কেট বসেছে তাদের হাজার রকমের সোয়েটার , টুপি হরেক জিনিস নিয়ে। খুজে খুজে একটু দরদাম করে কিনে নিন নরম তুলতুলে একটা শীতবস্ত্র। তারপর চলুন খেয়ে নি একটা গরম ভুট্টা, পোড়া পোড়া ভুট্টা সাথে ঝাল নুন আর লেবু জাস্ট ফাটাফাটি। এইবার আর কথা নয় ম্যালের প্রধান রাস্তা ধরে চলুন watch tower এর দিকে পথে যাবার পথে হটাত নাকে আসবে চকলেট পেস্ট্রির তীব্র গন্ধ আর কানে আসবে কোন জ্যাজ অথবা পপ ইংলিশ গান। চোখ বুজে ঢুকে পড়ুন আমার প্রিয় গ্লেনারিতে। একটা কফি অথবা ছোট্ট পটের দার্জিলিং চা সাথে নিন চকলেট ব্লুবেরি কেক। বসে পরুন কাঁচের দেওয়ালের ওপারে, কুয়াশা মেখে উপভোগ করুন রাতের সুন্দরী দার্জিলিং কে।
রাত বাড়ছে দার্জিলিং শহরে। মেঘের দল আস্তে আস্তে ঘিরে ধরছে প্রিয় দার্জিলিং কে, চলুন এইবার হাটা লাগাই দার্জিলিং বিগ বাজারের দিকে পথে যেতে পরবে পেন্নাং রেস্টুরেন্ট আর Washington restaurant দার্জিলিং এর সেরা মোমও এরাই বানায়। আর মোমও খেতে গেলে অবশ্যই কিন্তু পর্ক মোমও। এইবার একটু এগিয়েই রিংক মলের ঠিক উল্টোদিকে আমার প্রিয় joeys pub. সেখানে পৌঁছালেই আলাদা পৃথিবী। একটু বিয়ারের নেশায় বুঁদ হয়ে আপনি আমার সাথে হাঁটা লাগান আঁকা বাঁকা পথে ম্যালের ঘোড়ার আস্তাবলের রাস্তায়, ওখানেই তো kalden tibetian caffe and restaurant, এখানেই পাবেন বিখ্যাত পর্ক সসেজ সাথে ঝাল ঝাল হাক্কা চাওমিন আর আমার মত পেটুক হলে চিকেন মাশরুম সুপ সাথে। আজ রাতে হোটেলে ঢোকার তাড়া নেই আজ আপনি আমার সাথে রাতের দার্জিলিং কে চিনুন।
পুরো মেঘ কুয়াশায় ডুবে গেছে দার্জিলিং ম্যাল, দোকানপাট রেস্টুরেন্ট আস্তে আস্তে বন্ধ হচ্ছে। বেশীরভাগ কাঠের বেঞ্চি খালি তারই মধ্যে একটা খালি দেখে আমিও ডুব মারলাম কুয়াশায়। দুরের আলোগুলো নিভু নিভু হতে চলেছে কুয়াশা
মেঘের ঘন আস্তরনে। একটা পাহাড়ি মাতাল তার টলোমলো পায়ে হেটে যাচ্ছে পাহাড়ি রাস্তা ধরে তার জড়িয়ে যাওয়া গানের কলি এক অদ্ভুত প্রশান্তি। একটু দূরে হেটে আসছে দুটো নেপালি ছেলেমেয়ে, মেয়েটা তার ক্লান্ত মাথা রেখেছে ছেলেটার কাঁধে দুজন ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি কুয়াশার ভালোবাসায় ।
রাত আরও গভীর হচ্ছে এই শহরের বুকে। কুয়াশা ভেঙ্গে আমিও হাঁটতে লাগলাম ম্যাল বরাবর, সারা শরীর ডুবে যাচ্ছে মেঘে। কেমন যেন ঐশ্বরিক ভাবনার অ্যালকোহল মিশে যাচ্ছে আমার রক্তে আমি ক্রমশ মাতাল হচ্ছি সেই অনুভুতির আবেশে। আমার ভালোবাসা বেঁচে থাকুক আমার ভীষণ প্রিয় দার্জিলিং এর জন্যে।






No comments:
Post a Comment